দৃষ্টির আড়ালে দর্শন
খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উদ্ধার করা গ্যাছে, -
--শীত নয়, -শুধু কুয়াশার জন্যেই সে
শীতকালকে ভালোবাসতো না।
একই ধরনের যুক্তির বিচারে ঘৃণা করতো,
--ধোঁয়াকেও সে ভালোবাসতো না ;
--দৃশ্যমান দৃশ্য ঘোলা হ’য়ে যায়, -আর,
ঝাপসা ঝাপসা দহন বা শিখা তার
বর্তমান হিসেবের বাহিরে থাকে ॥
যখন ঘষাকাঁচের ঘোলা চশমা একজোড়া
তার চোখে এঁটে দেওয়া হ’লো, --
-যেন অস্থায়ী অন্ধত্ব পেলো সে ধোঁয়াশায় ;
যা’ ছিলো তার দৃষ্টিসীমার নাগালে, -সবকিছু ,
--দৃষ্টিনিরপেক্ষতায় ধোঁয়াময় কুয়াশাময় (!?) ;
দেখা যায়, -সে তখন স্বতন্ত্র মাপে-পরিমাপে,
-সত্য অনুভবে, ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায়, --
--শীতকে চিনেছিলো শীতে।
---দহনকে চিনেছিলো দহনে ॥
সূত্র : যারা চোখ মেলে দ্যাখে তাদের দেখার চে’
যারা চোখ মেলে তাকায় আর চোখমুদে দ্যাখে,
--তাদের ‘দেখা’য় ভুলের মাত্রা কম।
রঙ্গপুর - ০৩/০৮/১৯৮৩ খ্রি:
পরিসংখ্যান
সম্ভাবনার গণনায়
ঊনপঞ্চাশ এবং একান্ন সমান
যেমন সমান আটাশ এবং বাহাত্তর
শতকরা পঞ্চাশ ভাগ সম্ভাবনা নিয়েই
নিত্য চলেন সফল বুদ্ধিমান
-২৭/০১/২০০৪ খ্রি:
রূপান্তর
কোনো ইতর প্রাণী, -রোগে আক্রান্ত হ’লে,
-ঐ প্রাণী স্বজাতির মধ্যে রোগ ছড়িয়ে বেরোয় না; -
-নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে চ’লে যায় আড়ালে; --
-তার প্রজাতি উজাড় হওয়া থেকে রক্ষা পায় ॥
আবেগ তাড়িত বন্য-জন্তুরা
মারাত্মক যৌনরোগে আক্রান্ত হ’লে
আচরণে তারা আর ইতর থাকে না ;
-সুপ্ত বিবেকের (?) জাগরণে, -তাদের আচরণ
আত্মসংযত মানুষের মতো হ’য়ে যায়।
রোগাক্রান্ত হলে মানুষেরও রূপান্তর ঘটে ॥
-মানুষ আর থাকে না মানুষের মতো ;
--বিবেকের ওপর আবেগ চড়াও হ’লে,
-আবেগ তাড়িত মানুষ সংযম ভুলে যায়।
--দৈহিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
আত্মসম্মান ফিরে না-পেলে,
--ঐ মানুষ ভদ্রবেশী ইতর হ’য়ে যায় ॥
রঙ্গপুর - ২০ /০৫ /২০০৩ খ্রি:
ক্রন্দনোল্লাস
চার হাজার তিন শত একুশ বছরের ক্রন্দনসমষ্টি
মহানিনাদের নীরবতায় পৌঁছায়,
আমাদের শ্রবণযন্ত্রের সীমাবদ্ধতার কল্যাণে
আমরা তা শুনতে পারি না।
ঐ ক্রন্দনসমষ্টির সঙ্গে বর্তমানের কিছু হাহাকার,
কিছু বিলাপ, কিছু লম্ফনৃত্যচিৎকার যোগ হ’লে পরে
তোমার উন্মাদ মুখ দিয়ে যে আওয়াজ বের হ’য়ে
আমাদের ভোঁতা কানে ঢোকে, আমরা শুনি,
রুক্ষতামাখা উল্লাসের হাসির মতো উগ্র আওয়াজ শুনি,
--আমরা ওতে ভীষণ কষ্ট পাই ভিতর থেকে।
ঐ শব্দ তো তৃপ্তির হাসি নয় বরং প্রমাণিত প্রকাশিত ক্রন্দন !
আমরা প্রমাণ পাই ওতে আদ্রতার তীব্র অভাব দেখে।
--ঐ বিকৃত শুষ্ক শব্দসমষ্টিতে
আনন্দের আদ্রতার অভাব দেখে দেখে
ধৈর্য ধ’রে আমরা সহ্যের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছি
অসভ্যতার সেই শুরু থেকে।
রঙ্গপুর -২৬ /০৪ /০৮
অদূরবীক্ষণ-চার
নিশ্চয়ই আমাকে এখানে আসতে হয়েছে
এমন কোনো বিশেষ কাজে যা’ আমি ছাড়া
অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব হচ্ছিলো না
নইলে করিতকর্মা অন্য কেউ এসে সহজেই খুঁজে পেয়ে
কাজটা করতো যেটাকে আমি খুঁজতে গিয়ে যে কর্মক্ষেত্রগুলোতে
এযাবৎকাল আমার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছি ,
ঐ সব ক্ষেত্রে অন্যদেরকে আমার চে’ উপযুক্ত দেখে দেখে
জীবিকার ফাঁকে ফাঁকে নিত্য ব্যস্ততায় সসম্মানে স’রে এসে এসে
খুঁজে বেড়িয়েছি একান্ত আমার জন্য সুনির্দিষ্ট ঐ কাজটাকে
যা’ অন্য কাউকে দিয়েই সম্ভব হচ্ছিলো না জন্যেই আমার আসা
অথবা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম এমন একজনকে
যে-জন আমার কর্মক্ষেত্রটিকে জানে এবং আমাকে দেখিয়ে যাবে।
এতকাল পরে তার-ই নাগাল পেলাম সম্ভবত,-
তোমার জন্য বরাদ্দ কাজটাই তো তুমি করেছো হে ,
তুমি শুধু খুঁজেই যাবে, এটাই তোমার কাজ,-
অহেতুক তুমি এতখানি বিচলিত ! -জানিয়ে দিয়ে নিমেষে
আড়ালে মিশে গ্যালো সে।
--০৬ /১২ /২০০৬
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন