কোনো এক ক্ষৌণীশের সত্য স্বীকারোক্তি
আমার কাছে দেশ ও দশের যা’ পাওনা
সেটা শোধ করার সময়ই পাই না,
বরং সুযোগ পেলে মিথ্যে মালিক সেজে
অজ্ঞদের সামনেই অজ্ঞ সাধারণের সম্পদ
নিজের দিকেই টানি,-
--এমন অবস্থায় যেকোনো মানুষ
আমাকে একটা চোরের প্রাপ্য ‘মর্যাদা’ দেবে,
-যেভাবে একটা চোরের মূল্যায়ন করা হয় জানি,
--প্রত্যেকেই যেমন তার উচিত মূল্য পায়,--
--তেমনিভাবে, আমারও একটা মূল্য দাঁড়াবে, -সেটাই বাস্তবতা।
জনসংখ্যায় ‘একজন সাধারণ মানুষ’ হিসেবে নিজেকে দাবি করি,
-অথচ তা’ নই ; -কখনোই মানুষ নই, আমি চোর স্বভাবধর্মে ;
--অনেকেই জানে, আমি অভ্যস্ত নিজে নোংরা চুরিকর্মে।
নিকৃষ্টতম পেশাজীবী ত্রাণখোর ভিক্ষাজীবী অভিজাত ভিখারি নই,
-কিছুটা উন্নত, --আমি একজন চোর,
--ভিত্তিহীন অজুহাতে চুরি করি ;
-দাতাগোষ্ঠীরও কেউ নই আমি, আমার মুখে নীতিবাক্য বেমানান,
তবুও,--সাধারণ মানুষের ভিড়ে,--আড্ডায়, জলসায়,
ভিক্ষাজীবীদের অপকর্মের বিচারক রূপে আমাকেই দেখা যায়।
যখন নিজের দায়িত্বে-কর্মেতেই ফাঁকি
আর অন্যের অপকর্ম তল্লাশিতে আমার ব্যস্ততা ;
-আমাকে তো আমি চিনি,
অন্য কেউ না-জানুক কিম্বা জানুক তা’,
-আমি তো জেনেছি, দাতা ছাড়া অন্য কারো যোগ্যতা নেই,
-কেবল দাতাদেরই আছে ভিখারিদের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা।
এবং একজন চোর আমি, তবুও জেনে রাখা ভালো, --
-কেবল নিজের বিচারক আমি হ’তে পারি নিজে,--বাস্তব বিধানে,
--দাতাগোষ্ঠীর কেউ না-হ’য়ে কোনো চোরের জন্যে কখনো
ভিক্ষাজীবীদের বিচারক সাজার চেষ্টা করা ঘৃণ্য অশ্লীলতা।
রঙ্গপুর -- ১৪/০৫/২০০৪
নির্ঘণ্ট :
ক্ষৌণীশ # পৃথিবীপতি # মানবসন্তান।