শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১০

নিত্য লাভ

নিত্য লাভ

যখন আমার চূড়ান্ত চাওয়া বা লক্ষ্য থাকে পরাজিত হবার,
-যেকোনো ফলাফলে আমি লাভবান হই।
আমার পরাজয় হলে, চাওয়া-পাওয়া মিলে যায়,
-আমি পাই লক্ষ্যে পৌঁছার অফুরন্ত তৃপ্তি।
হঠাৎ আমার জয়লাভ হলেও, বিপক্ষের পরাজয়ে,
আমার চূড়ান্ত চাওয়ার পরাজয়  হয় তখন
এবং আমি পাই লক্ষ্যে পৌঁছার জাগতিক শান্তি।


রঙ্গপুর   - ২০/০২/২০০০ খ্রি:




বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৯

জ্ঞান ও জ্ঞানী

জ্ঞান ও জ্ঞানী

সর্বাধিকারী; সত্য; সুন্দর; স্রষ্টা; বিধাতা; উপাস্য;
বিধানদাতা; মাবুদ; শান্তি; দয়াময়; -ইত্যাদি ইত্যাদি
 যেকোনো নামেই চিহ্নিত হোক, --চিনলেই যথেষ্ট,
 --নাম ধ’রে ডাকা হোক্ বা না-হোক।
‘এতগুলো গুণবাচক নাম যার, -সেই বিধাতার জ্ঞান নেই,’-
 --এ-ই তত্ত্বটি! --সাধারণ এ-ই তত্ত্বটি,
             --জ্ঞানীদেরকে চম্‌কে দেবার মতোই।
এবং সময়ে সময়ে সত্যের মনোনীত সংবাদবাহী  মহাজ্ঞানীরা,
  -নিজেদের অস্তিত্ব বিনাশের ভয়ে কিম্বা অজ্ঞাত কারণে,
   সাধারণের সমাবেশে সাধারণ সরল ঐ তত্ত্বটা
                              সরাসরি  প্রকাশ করেননি।
       --অথবা, -প্রকাশ করেছিলেন,
                 -কিন্তু অতিবোদ্ধারা  বুঝতেই পারিনি।
স্রষ্টার জ্ঞান নেই, -‘স্বয়ংজ্ঞান’ স্রষ্টার আছে ‘ইচ্ছা’।
  বিধাতার ইচ্ছাতেই সব, -মাবুদের ইচ্ছাতেই
                      সবকিছুর সৃষ্টি এবং ধ্বংস।

স্রষ্টার সকল সৃষ্টি-ই ‘শূন্য’ থেকে।
বিধাতার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ ; জ্ঞান-ও স্রষ্টার’ই সৃষ্টি।
-জ্ঞান মানুষের জন্যই সৃষ্ট; --তা-ই মানুষের আছে জ্ঞান।
-শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের অস্তিত্বের অবলম্বন  ‘জ্ঞান’; 
    -মানুষ সামনে-পিছনে যাওয়া-আসা করে ঐ জ্ঞানের মাধ্যমে।
বিধাতার অস্তিত্বের জন্য বিধাতার ইচ্ছাই যথেষ্ট।
-মাবুদের অস্তিত্বের জন্য সৃষ্ট কোনো কিছুর-ই আবশ্যকতা নেই,
            -তবে, --বিধানদাতা সৃষ্টির সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমরূপে
                                    স্ব-সৃষ্ট জ্ঞানকেই  ব্যবহার করেন।
শুধু মানুষের সঙ্গে ভাষার মাধ্যমে সংযোগরক্ষার দায়ে,
 -বিধানদাতা ‘স্বয়ংজ্ঞান’ স্রষ্টা স্ব-ইচ্ছায় নীচ হ’য়ে হ’য়ে
   মহাজ্ঞানীদের জ্ঞানগর্ভ উচ্চারণে নিজেকে,--
    --মহাজ্ঞানী; তত্ত্বজ্ঞানী; মহাকৌশলী;-
                   --ইত্যাদি ইত্যাদি রূপে দাবি করেছেন।
‘স্রষ্টা স্বয়ংজ্ঞান’ যুগে যুগে অজ্ঞ মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারে ঢুকে ঢুকে   
  অজ্ঞ মানবসন্তানদেরকে জ্ঞানী মনুষ্যে  পৌঁছে দিচ্ছেন।
       
স্ব-রূপে ধারে পাওয়া উপমা উপস্থিত,-
   বেলুনটির ভেতরে বাতাস আছে।
  --যথারীতি বেলুনটি দাবি করতে পারে,
         --‘আমার ভেতরে বাতাস আছে।’
‘বাতাস’ স্বয়ং যদি বলে,--‘আমার ভেতরে বাতাস আছে’,-
 --তা’তে শুনতে যেমন শোনাবে, -তেমনি রূপক শোনায়,
  -যখন,--স্রষ্টা স্বয়ংজ্ঞান বিধানদাতা নীচ হ’য়ে বলেন,
   --‘আমার জ্ঞান আছে,’--শুনতে তেমনি শোনায়,
    -মানুষের সমতুল্য হ’য়ে হ’য়ে মাবুদ দয়াময় উপাস্য
      সত্য সুন্দর একক স্বয়ংজ্ঞান যখন বলেন,
       -আমি মহাজ্ঞানী, আমি মহাকৌশলী,--
                    --যেন হেঁয়ালির মতোই শোনায়।
যে কিনা নিত্য-বর্তমান, অতীতে ভবিষ্যতে ধ্রুব স্থির-একক,
 -তার জন্য কোনো জ্ঞাত কিম্বা অজ্ঞাত জ্ঞানের উৎস নেই।
--বস্তুত, -‘স্বয়ংজ্ঞান স্বয়ম্ভূ ’র জ্ঞান নেই।
মানুষের অতীত-ভবিষ্যৎ  আছে, -মানুষের জ্ঞান আছে ॥


রঙ্গপুর    -৩০/১২/২০০৩ খ্রি:

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০০৯

জ্ঞানী এবং জ্ঞানপাপী

জ্ঞানী এবং জ্ঞানপাপী

দু’ভাগে বিভক্ত ক্ষৌণীশ সমষ্টি, -
 -জ্ঞানী এবং জ্ঞানপাপী, --পৃথকীকরণ প্রক্রিয়ায়
  সরলতম যে সূত্রটি পাওয়া গেলো
   তাতে দেখা যায়, --
     জ্ঞানীরা অনেকের মাঝে থেকেও প্রত্যেকে একা
        তাই অন্যদেরকে নিজ-রূপে সাজাতে চায়।

জ্ঞানপাপীরা জ্ঞানীদের বিপরীতধর্মী,
 --সাথে দৃশ্যমান কেউ না-থাকলেও
  কোনো জ্ঞানপাপী একাকীত্বে ভোগে না কখনো
   তবে নিজের রূপে নিজেই অতৃপ্ত, -তাই, --
  নিজেকে বহুরূপে সাজাতেই তাকে ব্যস্ত দেখা যায়।


রঙ্গপুর --    --১১/০৫/২০০৪ খ্রি: 



রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০০৯

দৃষ্টির আড়ালে দর্শন

দৃষ্টির আড়ালে দর্শন

খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উদ্ধার করা গ্যাছে, -
  --শীত নয়, -শুধু কুয়াশার জন্যেই সে
           শীতকালকে ভালোবাসতো না।
একই ধরনের যুক্তির বিচারে ঘৃণা করতো,
        --ধোঁয়াকেও সে ভালোবাসতো না ;
--দৃশ্যমান দৃশ্য ঘোলা হ’য়ে যায়, -আর,
      ঝাপসা ঝাপসা দহন বা শিখা তার
        বর্তমান হিসেবের  বাহিরে থাকে ॥

যখন ঘষাকাঁচের ঘোলা চশমা একজোড়া
  তার চোখে এঁটে দেওয়া হ’লো, --
   -যেন অস্থায়ী অন্ধত্ব পেলো সে ধোঁয়াশায় ;
    যা’ ছিলো তার দৃষ্টিসীমার নাগালে, -সবকিছু ,
    --দৃষ্টিনিরপেক্ষতায় ধোঁয়াময় কুয়াশাময় (!?) ;
   দেখা যায়, -সে তখন স্বতন্ত্র মাপে-পরিমাপে,
         -সত্য অনুভবে, ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায়, --
                    --শীতকে চিনেছিলো শীতে।
                 ---দহনকে চিনেছিলো দহনে ॥


সূত্র :  যারা চোখ মেলে দ্যাখে  তাদের দেখার চে’
 যারা চোখ মেলে তাকায়  আর চোখমুদে দ্যাখে,
           --তাদের ‘দেখা’য়  ভুলের মাত্রা কম।

রঙ্গপুর  - ০৩/০৮/১৯৮৩ খ্রি:


পরিসংখ্যান

সম্ভাবনার গণনায়
  ঊনপঞ্চাশ এবং একান্ন সমান
  যেমন সমান আটাশ এবং বাহাত্তর
শতকরা পঞ্চাশ ভাগ সম্ভাবনা নিয়েই
      নিত্য চলেন সফল বুদ্ধিমান

-২৭/০১/২০০৪ খ্রি:
 

রূপান্তর
কোনো ইতর প্রাণী, -রোগে আক্রান্ত হ’লে,
 -ঐ প্রাণী স্বজাতির মধ্যে রোগ ছড়িয়ে বেরোয় না; -
   -নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে চ’লে যায় আড়ালে; --
      -তার প্রজাতি উজাড় হওয়া  থেকে রক্ষা পায় ॥
আবেগ তাড়িত বন্য-জন্তুরা
      মারাত্মক যৌনরোগে আক্রান্ত হ’লে
               আচরণে তারা আর ইতর  থাকে না ;
-সুপ্ত বিবেকের (?) জাগরণে, -তাদের আচরণ
             আত্মসংযত মানুষের মতো হ’য়ে যায়।
রোগাক্রান্ত হলে মানুষেরও রূপান্তর ঘটে ॥
  -মানুষ আর থাকে না মানুষের মতো ;
    --বিবেকের ওপর আবেগ চড়াও হ’লে,
      -আবেগ তাড়িত মানুষ সংযম ভুলে যায়।
--দৈহিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে
      আত্মসম্মান ফিরে না-পেলে,
        --ঐ মানুষ ভদ্রবেশী ইতর  হ’য়ে যায় ॥

রঙ্গপুর -  ২০ /০৫ /২০০৩ খ্রি:


ক্রন্দনোল্লাস
চার হাজার তিন শত একুশ বছরের ক্রন্দনসমষ্টি
মহানিনাদের নীরবতায় পৌঁছায়,
আমাদের শ্রবণযন্ত্রের সীমাবদ্ধতার কল্যাণে
আমরা তা শুনতে পারি না।
ঐ ক্রন্দনসমষ্টির সঙ্গে বর্তমানের কিছু হাহাকার,
কিছু বিলাপ, কিছু লম্ফনৃত্যচিৎকার যোগ হ’লে পরে
তোমার উন্মাদ মুখ দিয়ে যে আওয়াজ বের হ’য়ে
আমাদের ভোঁতা কানে ঢোকে, আমরা শুনি,
রুক্ষতামাখা উল্লাসের হাসির মতো উগ্র আওয়াজ শুনি,
--আমরা ওতে ভীষণ কষ্ট পাই ভিতর থেকে।
ঐ শব্দ তো তৃপ্তির হাসি নয় বরং প্রমাণিত প্রকাশিত ক্রন্দন !
আমরা প্রমাণ পাই ওতে আদ্রতার তীব্র অভাব দেখে।
 --ঐ বিকৃত শুষ্ক শব্দসমষ্টিতে
     আনন্দের আদ্রতার অভাব দেখে দেখে
         ধৈর্য ধ’রে আমরা সহ্যের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছি
                                 অসভ্যতার সেই শুরু থেকে।

রঙ্গপুর -২৬ /০৪ /০৮   


অদূরবীক্ষণ-চার
নিশ্চয়ই আমাকে এখানে আসতে হয়েছে
এমন কোনো বিশেষ কাজে যা’ আমি ছাড়া
অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব হচ্ছিলো না
নইলে করিতকর্মা অন্য কেউ এসে সহজেই খুঁজে পেয়ে
কাজটা করতো যেটাকে আমি খুঁজতে গিয়ে যে কর্মক্ষেত্রগুলোতে
এযাবৎকাল আমার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছি ,
ঐ সব ক্ষেত্রে অন্যদেরকে আমার চে’ উপযুক্ত দেখে দেখে
জীবিকার ফাঁকে ফাঁকে নিত্য ব্যস্ততায় সসম্মানে স’রে এসে এসে
খুঁজে বেড়িয়েছি একান্ত আমার জন্য সুনির্দিষ্ট ঐ কাজটাকে
যা’ অন্য কাউকে দিয়েই সম্ভব হচ্ছিলো না জন্যেই আমার আসা
অথবা খুঁজে বেড়াচ্ছিলাম এমন একজনকে
যে-জন আমার কর্মক্ষেত্রটিকে জানে এবং আমাকে দেখিয়ে যাবে।
এতকাল পরে তার-ই নাগাল পেলাম সম্ভবত,-
      তোমার জন্য বরাদ্দ কাজটাই তো তুমি করেছো হে ,
      তুমি শুধু খুঁজেই যাবে, এটাই তোমার কাজ,-
      অহেতুক তুমি এতখানি বিচলিত !
-জানিয়ে দিয়ে নিমেষে
                                      আড়ালে মিশে গ্যালো সে। 

--০৬ /১২ /২০০৬    



ভিখারির বিবেচনা

ভিখারির বিবেচনা

যেখানে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের অর্থে লালিত,
 যেখানে দলীয় কর্মীরা ক্রীতদাসের মতো পোষ্য পালিত,
  যেখানে আত্মকোন্দলপ্রিয় জনগণ অজ্ঞ অচেতন,
   যেখানে কর্মবিমুখ ক্ষৌণীশদের নিত্য অনটন,
   খণ্ড গোষ্ঠীর স্বার্থ যেখানে অখণ্ড সমষ্টির স্বার্থের চেয়ে প্রবল,
    যেখানে অজ্ঞ ক্ষৌণীশেরা নিজেদের ‘নৈর্ব্যক্তিক-সম্পদ’কে
     তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পদ ভেবে
      নিজেদের সম্পদ নিজেরাই চুরি করে,
       --অন্য চোরকেও বাধা দেয় না
 এবং, যেখানে ক্ষৌণীশেরা অযত্নে অবহেলায়
  সচল সম্পদকে বিকল করে,
   ব্যক্তিগত লাভের লোভে অযোগ্যকে যোগ্যের মর্যাদা দেয়,--
বিধানের কসম, --সেখানে, -
  কোনো বেতনভোগী কার্যনির্বাহী কিম্বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা
  ক্ষৌণীশ সাধারণের সম্পদ লুট ক’রে নিয়ে বিত্তবান হয়েছে,-

     -এমন অশ্লীল দাবি করার যোগ্যতা ঋণগ্রস্ত ক্ষৌণীশদের নেই।
এখানে অভিজাত ভিখারির প্রতিপত্তির উৎস বহুজাতিক ত্রাণ ।
(  ত্রাণ বা করুণার দান কখনোই ক্ষৌণীশদের চেষ্টার্জিত সম্পদ নয়।
   নিজেদের ঘৃণ্য পেশাগত অধিকারে কেবল কর্মবিমুখ ভিক্ষাকামীরাই
   যেকোনো ত্রাণসম্পদকে ‘আমাদের সম্পদ’ ব’লে দাবি করতে চায়।
   তবে ক্ষৌণীশেরা জানে, -ঐ ত্রাণসম্পদ শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত নয়।
   অপরের ঋণে ঋণাক্রান্ত হ’য়েও সাধারণ ক্ষৌণীশেরা আত্মসম্মানিত;
   সাধারণ জনগণ এখানে ভিখারির নোংরা সম্পদ নাড়াঘাঁটা করে না।
  )

যদিও বা ভিক্ষা চাওয়ার কৌশলে অভিজাত ভিখারিরা
 সাধারণ ক্ষৌণীশদের নাম ভাঙ্গায় সর্বকালে;
  --নিঃসন্দেহে, ঐ ত্রাণখোরদের বিবেচনা আছে;
    --ঐ ত্রাণ-সম্পদ মানুষকে না-দিয়ে ওরা নিজেরাই জমায়,
        --ক্ষৌণীশদেরকে ওরা কখনো হ’তে দেয় না ভিক্ষাজীবী।
যথারীতি, সম্মানিত ক্ষৌণীশদের ধন এবং মান থাকে সুরক্ষিত।


রঙ্গপুর                 --০১/০৫/২০০৪   
                  

নির্ঘণ্ট :
ক্ষৌণীশ # পৃথিবীপতি # মানবসন্তান।
‘নৈর্ব্যক্তিক-সম্পদ’ # সাধারণের বা সরকারের বা সমষ্টির সম্পদ।

কোনো এক ক্ষৌণীশের সত্য স্বীকারোক্তি

কোনো এক ক্ষৌণীশের সত্য স্বীকারোক্তি 

আমার কাছে দেশ ও দশের যা’ পাওনা
 সেটা শোধ করার সময়ই পাই না,
  বরং সুযোগ পেলে মিথ্যে মালিক সেজে
   অজ্ঞদের সামনেই অজ্ঞ সাধারণের সম্পদ
    নিজের দিকেই টানি,-
     --এমন অবস্থায় যেকোনো মানুষ
      আমাকে একটা চোরের প্রাপ্য ‘মর্যাদা’ দেবে,
       -যেভাবে একটা চোরের মূল্যায়ন করা হয় জানি,
        --প্রত্যেকেই যেমন তার উচিত মূল্য পায়,--
--তেমনিভাবে, আমারও একটা মূল্য দাঁড়াবে, -সেটাই বাস্তবতা।

জনসংখ্যায় ‘একজন সাধারণ মানুষ’ হিসেবে নিজেকে দাবি করি,
 -অথচ তা’ নই ; -কখনোই মানুষ নই, আমি চোর স্বভাবধর্মে ;
  --অনেকেই জানে, আমি অভ্যস্ত নিজে নোংরা চুরিকর্মে।

নিকৃষ্টতম পেশাজীবী ত্রাণখোর ভিক্ষাজীবী অভিজাত ভিখারি নই,
 -কিছুটা উন্নত, --আমি একজন চোর,
  --ভিত্তিহীন অজুহাতে চুরি করি ;
   -দাতাগোষ্ঠীরও কেউ নই আমি, আমার মুখে নীতিবাক্য বেমানান,
    তবুও,--সাধারণ মানুষের ভিড়ে,--আড্ডায়, জলসায়,
     ভিক্ষাজীবীদের অপকর্মের বিচারক রূপে আমাকেই দেখা যায়।

যখন নিজের দায়িত্বে-কর্মেতেই ফাঁকি
 আর অন্যের অপকর্ম তল্লাশিতে আমার ব্যস্ততা ;
  -আমাকে তো আমি চিনি,
   অন্য কেউ না-জানুক কিম্বা জানুক তা’,
 -আমি তো জেনেছি, দাতা ছাড়া অন্য কারো যোগ্যতা নেই,
  -কেবল দাতাদেরই আছে ভিখারিদের বিচারক হওয়ার যোগ্যতা।
এবং একজন চোর আমি, তবুও জেনে রাখা ভালো, --
 -কেবল নিজের বিচারক আমি হ’তে পারি নিজে,--বাস্তব বিধানে,
      --দাতাগোষ্ঠীর কেউ না-হ’য়ে কোনো চোরের জন্যে কখনো
        ভিক্ষাজীবীদের বিচারক সাজার চেষ্টা করা ঘৃণ্য অশ্লীলতা।
রঙ্গপুর  -- ১৪/০৫/২০০৪  

নির্ঘণ্ট : 
ক্ষৌণীশ # পৃথিবীপতি # মানবসন্তান।