রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০০৯

ভিখারির বিবেচনা

ভিখারির বিবেচনা

যেখানে রাজনীতি ব্যবসায়ীদের অর্থে লালিত,
 যেখানে দলীয় কর্মীরা ক্রীতদাসের মতো পোষ্য পালিত,
  যেখানে আত্মকোন্দলপ্রিয় জনগণ অজ্ঞ অচেতন,
   যেখানে কর্মবিমুখ ক্ষৌণীশদের নিত্য অনটন,
   খণ্ড গোষ্ঠীর স্বার্থ যেখানে অখণ্ড সমষ্টির স্বার্থের চেয়ে প্রবল,
    যেখানে অজ্ঞ ক্ষৌণীশেরা নিজেদের ‘নৈর্ব্যক্তিক-সম্পদ’কে
     তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্পদ ভেবে
      নিজেদের সম্পদ নিজেরাই চুরি করে,
       --অন্য চোরকেও বাধা দেয় না
 এবং, যেখানে ক্ষৌণীশেরা অযত্নে অবহেলায়
  সচল সম্পদকে বিকল করে,
   ব্যক্তিগত লাভের লোভে অযোগ্যকে যোগ্যের মর্যাদা দেয়,--
বিধানের কসম, --সেখানে, -
  কোনো বেতনভোগী কার্যনির্বাহী কিম্বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা
  ক্ষৌণীশ সাধারণের সম্পদ লুট ক’রে নিয়ে বিত্তবান হয়েছে,-

     -এমন অশ্লীল দাবি করার যোগ্যতা ঋণগ্রস্ত ক্ষৌণীশদের নেই।
এখানে অভিজাত ভিখারির প্রতিপত্তির উৎস বহুজাতিক ত্রাণ ।
(  ত্রাণ বা করুণার দান কখনোই ক্ষৌণীশদের চেষ্টার্জিত সম্পদ নয়।
   নিজেদের ঘৃণ্য পেশাগত অধিকারে কেবল কর্মবিমুখ ভিক্ষাকামীরাই
   যেকোনো ত্রাণসম্পদকে ‘আমাদের সম্পদ’ ব’লে দাবি করতে চায়।
   তবে ক্ষৌণীশেরা জানে, -ঐ ত্রাণসম্পদ শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত নয়।
   অপরের ঋণে ঋণাক্রান্ত হ’য়েও সাধারণ ক্ষৌণীশেরা আত্মসম্মানিত;
   সাধারণ জনগণ এখানে ভিখারির নোংরা সম্পদ নাড়াঘাঁটা করে না।
  )

যদিও বা ভিক্ষা চাওয়ার কৌশলে অভিজাত ভিখারিরা
 সাধারণ ক্ষৌণীশদের নাম ভাঙ্গায় সর্বকালে;
  --নিঃসন্দেহে, ঐ ত্রাণখোরদের বিবেচনা আছে;
    --ঐ ত্রাণ-সম্পদ মানুষকে না-দিয়ে ওরা নিজেরাই জমায়,
        --ক্ষৌণীশদেরকে ওরা কখনো হ’তে দেয় না ভিক্ষাজীবী।
যথারীতি, সম্মানিত ক্ষৌণীশদের ধন এবং মান থাকে সুরক্ষিত।


রঙ্গপুর                 --০১/০৫/২০০৪   
                  

নির্ঘণ্ট :
ক্ষৌণীশ # পৃথিবীপতি # মানবসন্তান।
‘নৈর্ব্যক্তিক-সম্পদ’ # সাধারণের বা সরকারের বা সমষ্টির সম্পদ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন