জ্ঞান ও জ্ঞানী
সর্বাধিকারী; সত্য; সুন্দর; স্রষ্টা; বিধাতা; উপাস্য;
বিধানদাতা; মাবুদ; শান্তি; দয়াময়; -ইত্যাদি ইত্যাদি
যেকোনো নামেই চিহ্নিত হোক, --চিনলেই যথেষ্ট,
--নাম ধ’রে ডাকা হোক্ বা না-হোক।
‘এতগুলো গুণবাচক নাম যার, -সেই বিধাতার জ্ঞান নেই,’-
--এ-ই তত্ত্বটি! --সাধারণ এ-ই তত্ত্বটি,
--জ্ঞানীদেরকে চম্কে দেবার মতোই।
এবং সময়ে সময়ে সত্যের মনোনীত সংবাদবাহী মহাজ্ঞানীরা,
-নিজেদের অস্তিত্ব বিনাশের ভয়ে কিম্বা অজ্ঞাত কারণে,
সাধারণের সমাবেশে সাধারণ সরল ঐ তত্ত্বটা
সরাসরি প্রকাশ করেননি।
--অথবা, -প্রকাশ করেছিলেন,
-কিন্তু অতিবোদ্ধারা বুঝতেই পারিনি।
স্রষ্টার জ্ঞান নেই, -‘স্বয়ংজ্ঞান’ স্রষ্টার আছে ‘ইচ্ছা’।
বিধাতার ইচ্ছাতেই সব, -মাবুদের ইচ্ছাতেই
সবকিছুর সৃষ্টি এবং ধ্বংস।
স্রষ্টার সকল সৃষ্টি-ই ‘শূন্য’ থেকে।
বিধাতার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ ; জ্ঞান-ও স্রষ্টার’ই সৃষ্টি।
-জ্ঞান মানুষের জন্যই সৃষ্ট; --তা-ই মানুষের আছে জ্ঞান।
-শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের অস্তিত্বের অবলম্বন ‘জ্ঞান’;
-মানুষ সামনে-পিছনে যাওয়া-আসা করে ঐ জ্ঞানের মাধ্যমে।
বিধাতার অস্তিত্বের জন্য বিধাতার ইচ্ছাই যথেষ্ট।
-মাবুদের অস্তিত্বের জন্য সৃষ্ট কোনো কিছুর-ই আবশ্যকতা নেই,
-তবে, --বিধানদাতা সৃষ্টির সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমরূপে
স্ব-সৃষ্ট জ্ঞানকেই ব্যবহার করেন।
শুধু মানুষের সঙ্গে ভাষার মাধ্যমে সংযোগরক্ষার দায়ে,
-বিধানদাতা ‘স্বয়ংজ্ঞান’ স্রষ্টা স্ব-ইচ্ছায় নীচ হ’য়ে হ’য়ে
মহাজ্ঞানীদের জ্ঞানগর্ভ উচ্চারণে নিজেকে,--
--মহাজ্ঞানী; তত্ত্বজ্ঞানী; মহাকৌশলী;-
--ইত্যাদি ইত্যাদি রূপে দাবি করেছেন।
‘স্রষ্টা স্বয়ংজ্ঞান’ যুগে যুগে অজ্ঞ মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারে ঢুকে ঢুকে
অজ্ঞ মানবসন্তানদেরকে জ্ঞানী মনুষ্যে পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্ব-রূপে ধারে পাওয়া উপমা উপস্থিত,-
বেলুনটির ভেতরে বাতাস আছে।
--যথারীতি বেলুনটি দাবি করতে পারে,
--‘আমার ভেতরে বাতাস আছে।’
‘বাতাস’ স্বয়ং যদি বলে,--‘আমার ভেতরে বাতাস আছে’,-
--তা’তে শুনতে যেমন শোনাবে, -তেমনি রূপক শোনায়,
-যখন,--স্রষ্টা স্বয়ংজ্ঞান বিধানদাতা নীচ হ’য়ে বলেন,
--‘আমার জ্ঞান আছে,’--শুনতে তেমনি শোনায়,
-মানুষের সমতুল্য হ’য়ে হ’য়ে মাবুদ দয়াময় উপাস্য
সত্য সুন্দর একক স্বয়ংজ্ঞান যখন বলেন,
-আমি মহাজ্ঞানী, আমি মহাকৌশলী,--
--যেন হেঁয়ালির মতোই শোনায়।
যে কিনা নিত্য-বর্তমান, অতীতে ভবিষ্যতে ধ্রুব স্থির-একক,
-তার জন্য কোনো জ্ঞাত কিম্বা অজ্ঞাত জ্ঞানের উৎস নেই।
--বস্তুত, -‘স্বয়ংজ্ঞান স্বয়ম্ভূ ’র জ্ঞান নেই।
মানুষের অতীত-ভবিষ্যৎ আছে, -মানুষের জ্ঞান আছে ॥
রঙ্গপুর -৩০/১২/২০০৩ খ্রি:
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Sotyi-i, apnar lekhar hat din din aro beshi apurbo haye uthche.
উত্তরমুছুন